২০২৬ থেকে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ সুবিধা

ভারতে যাদের বয়স 60 বছর 70 বছর বা 80 বছরের ঊর্ধ্বে তাদের জন্য কিন্তু অনেক সুবিধা আনা হয়েছে 2026 থেকে। আমরা কিন্তু অনেকেই জানি যে ফার্স্ট এপ্রিল থেকে অনেক কিছুর পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার মধ্যে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য কিন্তু বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটা ব্যাংক বলুন, ট্যাক্স বলুন, পেনশন বলুন—সবকিছুতেই রয়েছে লাভ। তাই article টি শেষ পর্যন্ত দেখবেন যেখানে আমরা সিনিয়র সিটিজেনরা কি কি বেনিফিট পেতে পারে 1st এপ্রিলের পর থেকে সেসব ব্যাপারে আলোচনা করেছি। না হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করবেন।
সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র সিটিজেন কারা?
সবার প্রথম সিনিয়র সিটিজেন কাকে বলে? দেখুন, কাদেরকে সিনিয়র সিটিজেন বলে সেটা হয়তো সবাই জানে। কিন্তু আমি একটা আলাদা ভাগ করে দিচ্ছি। যাদের বয়স 60 বছরের ঊর্ধ্বে তাদেরকে আমরা কি বলি? সিনিয়র সিটিজেন বলি। এবার যাদের বয়স 60 থেকে 80 বছর তাদেরকে আমরা কি বলি? সিনিয়র সিটিজেন বলি। এবার যাদের বয়স 80 বছরের ঊর্ধ্বে তাদেরকে আমরা কি বলি? সুপার সিনিয়র সিটিজেন। হ্যাঁ, বর্তমানে সুপার সিনিয়র সিটিজেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাগ ছিল সব ক্ষেত্রে নয়; এখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের ভাগ রয়েছে। এবার যাদের বয়স 75 প্লাস হয় তারা অতিরিক্ত সুবিধা পায় কেন? দেখুন, সিনিয়র সিটিজেন যারা রয়েছে যাদের বয়স 60 বছরের ঊর্ধ্বে তারা তো সুবিধা পাবেই, কিন্তু যাদের বয়স 75 বছরের ঊর্ধ্বে তারা আরো বেশি কিছু সুবিধা পায়।
ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা
চলুন এবার এক এক করে সেই সুবিধাগুলোর ব্যাপারে জানি। সবার প্রথম ব্যাংক ও ইনভেস্টমেন্টের সুবিধা। যদি আপনাদের ব্যাংকে একাউন্ট থাকে এবং আপনারা ইনভেস্টমেন্ট করেন, তাহলে আপনারা এখন সুবিধা পাবেন। দেখুন, সবসময় এফডিতে আপনাদের জন্য (মানে সিনিয়র সিটিজেন যারা রয়েছে) তারা জিরো থেকে 5% থেকে 1% এর মত বেশি সুদ পায়। আর যদি আপনারা সুপার সিনিয়র সিটিজেন হয়ে থাকেন তাহলে সেটা 1% থেকে 2% বেশি সুদ পায়। যখন আপনারা এফডি করাতে যাবেন এখন যেকোনো ব্যাংক—সেটা পাঞ্জাব হোক, এসবিআই হোক, এসডিএফসি হোক, আইসিআইসি হোক—যেকোনো ব্যাংকে দেখবেন সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা সুদ দেওয়া হয় আবার সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা সুদ দেওয়া হয়। তার মানে আপনার বাড়িতে যদি কোন গার্জিয়ান থাকে তার নামে এফডি ওপেন করি আপনারাও অতিরিক্ত ইনকাম করতে পারবেন।
এবার আসি সিনিয়র সিটিজেন সেভিং স্কিমে। সেখানে কিন্তু 8.2% 2% সুদ দেওয়া হয়, যেটা এখন অব্ধ হাইয়েস্ট বলা যায়। এবার এটার জন্য শুধুমাত্র 60 বছর হলেই হলো, 75 প্লাস হতে হবে না। 60 বছরের উর্ধে হলে আপনারা এই স্কিমে ইনভেস্ট করতে পারবেন। প্রতি তিন মাস পর পর আপনারা কোয়ার্টারলি ইনকাম করতে পারবেন, যেখানে পুরোপুরি আপনার টাকা নিরাপদ এবং ফিক্সড ইনকামে ভালো অপশন। অনেকেই রয়েছেন যারা ফিক্সড ইনকাম চান এবং বলেন যেখান থেকে আমরা নিশ্চিন্তে ভালো রিটার্ন পাব, তার জন্য সিনিয়র সিটিজেন সেভিং স্কিম বেস্ট।
ইনকাম ট্যাক্সের সুবিধা
এরপরের যে অপশনটি রয়েছে সেটা হলো ইনকাম ট্যাক্সের সুবিধা। দেখুন, ওল্ড রিজিমে কি বলা হতো? যাদের বয়স 60 বছর থেকে 80 বছর তারা 3 লাখ পর্যন্ত ট্যাক্স ফ্রি; যাদের বয়স 80 বছরের ঊর্ধ্বে তারা 5 লাখ পর্যন্ত ট্যাক্স ফ্রি; 500 পর্যন্ত ইন্টারেস্ট ডিডাকশন। কিন্তু নিউ রিজিমে কি বলা হচ্ছে জানেন? 12 লাখ পর্যন্ত ইনকাম ট্যাক্স ফ্রি রিবেট সহ। আর এই যে 50000 পর্যন্ত ইন্টারেস্ট বললাম না, এখন সেই ইন্টারেস্ট দাঁড়িয়েছে 1 লক্ষ টাকা। মানে আপনি যদি 1 লক্ষ টাকায় ইন্টারেস্ট ইনকাম করেন যেকোন জায়গা থেকে, সেখান থেকে আপনাকে কিন্তু কোন এক টাকাও ট্যাক্স দিতে হবে না। মানে এফডি থেকে কিভাবে আপনারা আপনাদের ট্যাক্স বাঁচাতে পারবেন বা আপনারা যে ইনভেস্ট করেন সেভিংস একাউন্টে সেখানে কত টাকা ইন্টারেস্ট হলে আপনাদের কাছ থেকে ট্যাক্স কাটা হবে বা টিডিএস কাটা হবে। সেখানে আমরা খুব ভালোভাবে বুঝিয়েছি জেনারেলদের হিসাব, আবার খুব ভালোভাবে বুঝিয়েছি সিনিয়র সিটিজেনরা কত টাকা অব্দি ম্যাক্সিমাম এফডি বা সেভিংস একাউন্টে রাখতে পারবে।
টিডিএস ও অ্যাডভান্স ট্যাক্স এর সুবিধা
এরপর চলে আসে টিডিএস ও অডভান্স ট্যাক্স এর সুবিধা। দেখুন, অ্যাডভান্স ট্যাক্স দিতে হয় না সিনিয়র সিটিজেনদের। যদি আপনারা বিজনেস ইনকাম করেন তাহলে আপনাদের দিতে হবে। এবার অনেকেই রয়েছেন 60 বছর পরে গিয়ে ভাবেন যে আমরা একটা বিজনেস করব, বা অনেকেরই আগে থেকে বিজনেস থাকে আবার জবও করে। এবার যখন জব শেষ হয়ে যায়, 60 বছর পরে গিয়ে তারা কি হয়? তখন তারা কিন্তু শুধুমাত্র বিজনেসটা করেন। সেই বিজনেস ইনকাম থাকলে তবেই এডভান্স ট্যাক্স দিতে হয়, এছাড়া দিতে হয় না।
ফর্ম জমা দিলে টিডিটিএস কাটা বন্ধ করা যায়। মানে আপনার যদি টিডিএস কাটে সেক্ষেত্রে আপনি ফর্ম জমা দিতে পারেন। তাহলে আমরা কি ফর্ম দিব? আপনারা দিতে পারবেন ওয়ান টু ওয়ান ফর্ম। টিডিএস লিমিট বেশি, মানে এখন থেকে আর ওই 10000 15000 টাকা ইন্টারেস্ট হলেই টিডিএস কাটা হবে না, একটা লিমিট পরে গিয়ে টিডিএস কাটা হবে। মানে সাধারণ যারা জেনারেল রয়েছে তাদের থেকে বেশি বেনিফিট আপনারা পাবেন এটা আপনারা ধরে রাখুন। যাদের বয়স 75 বছরের উর্ধে তারাও কিন্তু বিশেষ সুবিধা পাবে; তারা এখন বর্তমান সময়ে আইটিআর ফাইল না করলে লেও চলবে। মানে তাদেরকে আর আইটিআর ফাইল করার দরকারই নেই যাদের বয়স 75 এর উপরে। ব্যাংক নিজেই ট্যাক্স কেটে জমা দেয়, তার মানে আপনাদের আর কোন হেডেক নেই, আপনাদের কোন আর চিন্তা নেই। আর সেই টিডিএস বা ট্যাক্স কাটে সেটা কিভাবে রিটার্ন পাওয়া যায় বা কত টাকা হলে কাটে আমি আবারও বলছি আই বাটন ডেসক্রিপশন বক্স ফলো করবেন। সেখানে ডিটেইলসে আমরা বুঝিয়ে কিন্তু আপনাদেরকে দিয়েছি।
পেনশন ও ইনকামের সুবিধা
পেনশন ও ইনকামের সুবিধা: দেখুন, 75,000 টাকা পর্যন্ত পেনশনে আপনারা ডিডাকশন পাবেন। ফ্যামিলি পেনশনে আপনারা 25,000 টাকার ছাড় পাবেন। মানে আপনারা যখন ট্যাক্সের হিসেব করবেন সেখানে কিন্তু মোট ট্যাক্স কমে যায়। তার মানে এখানে আপনারা বেনিফিট পাচ্ছেন। আগে যেটা আরো কম ছিল, এখন 75,000 টাকা পর্যন্ত পেনশনের রিডাকশন পাচ্ছেন। আর যদি আপনার ফ্যামিলি পেনশন থাকে সেই ক্ষেত্রে 25,000 টাকার ছাড়ও কিন্তু পাবেন।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা
যদি আমরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধার কথা বলি তাহলে 5,000 পর্যন্ত আপনারা হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাবেন বা মেডিকেল ডিডাকশন পাবেন। হ্যাঁ, এটা সত্যি। 500 পর্যন্ত আপনারা হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাবেন বা মেডিকেল ডিডাকশন পাবেন। গুরুতর অসুখে যদি আপনি এডমিট হন তাহলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাবেন। মেডিকেলে আলাদা খর্চার উপরেও আপনারা কিন্তু অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন যদি আপনারা সিনিয়র সিটিজেন হয়ে থাকেন। আপনারা সরকারি হাসপাতালে দেখান বা প্রাইভেট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু এই সুযোগ সুবিধা রয়েছে। আপনাকে সেই সুযোগ সুবিধাগুলো জানতে হবে, তবেই আপনারা কিন্তু সেই সুযোগ সুবিধাগুলো ক্লেইম করতে পারবেন।
সরকারি ও অন্যান্য সুবিধা
ক্যাপিটাল গেইন সুবিধা: দেড় লাখ পর্যন্ত প্রফিট ট্যাক্স ফ্রি। মানে ক্যাপিটাল গেইন বলতে অনেকে রয়েছেন মিউচুয়াল ফান্ড, অনেকেই রয়েছেন কিন্তু আবার শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করে ইনকাম করে, সেই ক্ষেত্রে দেড় লাখ পর্যন্ত প্রফিট ট্যাক্স ফ্রি। এর বেশি হলে 12.5% ট্যাক্স লাগবে। এটা হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন।
বাকি অন্যান্য আরো সরকারি সুবিধা আপনারা পাবেন। যেরকম ধরুন রেলওয়েতে লোয়ার বার্থ প্রায়রিটি রয়েছে। অনেকেই হয়তো জানে না যখন আপনারা আইআরসিটিসি অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটবেন সেই ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য যারা সিনিয়র সিটিজেন রয়েছে 60 বছরের উর্ধে তাদের জন্য কিন্তু লোয়ার বার্থ থাকে। যদি আপনারা প্ল্যাটফর্মে গিয়ে টিকিট কাটেন তাদের জন্য কিন্তু আপনার লোয়ার বাড়তি থাকে। কেউ যদি আপনাদেরকে ভুল করে লোয়ার বাথ না দেয় সেই ক্ষেত্রে আপনারা কিন্তু সেখানে বলতে পারেন আপনাকে লোয়ার বাড়তি দেওয়া হবে।
ডোর স্টেম্প ব্যাংকিং সার্ভিস: দেখুন, প্রাইভেট ব্যাংকগুলো ডোর স্টেপ দেয় সেটা আমরা জানি। কিন্তু যারা সরকারি ব্যাংক—এসবিআই, পিএনবি, ইউনিয়ন ব্যাংক—এরা ডোর স্টেপ দিতে চায় না। কিন্তু এটা কিন্তু নিয়মের মধ্যে বলা হয়েছে যে ডোর স্টেপ ব্যাংকিং সার্ভিস দিতে হবে। কোন বয়স্ক যদি ব্যাংকে যেতে না পারে তাহলে তাকে বাড়ি এসে সেই সুযোগ সুবিধা আপনাদেরকে দিতে হবে। এবার অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হয় না, সেই ক্ষেত্রে আপনারা কমপ্লেন করে জানাতে পারেন।
Read More : প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক না থাকলে হতে পারে বড় সমস্যা
সরকারি অফিসে আপনারা অগ্রাধিকার পাবেন। হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু জানেন না যে যারা সিনিয়র সিটিজেন রয়েছে তাদেরকে বেশিক্ষণ ওয়েট করানো যায় না সরকারি অফিসে। কিন্তু এখনকার সময়ে তা বেশি সময় ওয়েট করতে হয়, কিন্তু তা কিন্তু নয়। আপনারা চাইলে কমপ্লেন করতে পারেন। সরকারি অফিসে আপনারা অগ্রাধিকারও পাবেন। বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা পেনশনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে বয়স্কদের। হয়তো অনেকেই বয়স্ক ভাতা পান, সেগুলো কিন্তু সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের। বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা আলাদা পেনশন রয়েছে মিনিমাম হাজার টাকা থেকে শুরু বা 1500 টাকা থেকে শুরু এবং ম্যাক্সিমাম 4000 টাকার উপরও পেতে পারেন। এবার এগুলোর সুযোগ সুবিধা কিন্তু আপনারা যারা সিনিয়র সিটিজেন রয়েছেন তারা পাবেন।
পরিশেষ
তাহলে এক কথায় যদি আমরা বলি, 60 বছর বয়স হলেই আপনারা কি কি পেতে পারেন? সব থেকে বেশি সুদ আপনারা পেতে পারেন, কম ট্যাক্স আপনাদেরকে দিতে হবে, অতিরিক্ত মেডিকেল যেগুলো সুযোগ সুবিধা রয়েছে সেগুলো পাবেন, সরকারি সুবিধা পাবেন। তো এইসব জিনিস কিন্তু অনেকেই বর্তমান সময় জানে না। যাতে তারা জানতে পারে এবং এই সুযোগ সুবিধাগুলো নিতে পারে।