ডিএ এরিয়ারের আবার নতুন হিসেব সরকারের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের ইতিমধ্যে ডিএ এরিয়ার দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ২০১৬ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে এই চার বছরের যে ডিএ এরিয়ার প্রদান করা হচ্ছে, সেই প্রদানে বিস্তর ফারাক রয়েছে এআইসিপিআই অনুযায়ী। কি সেই ফারাক, ফারাকে কতটা ডিফারেন্স রয়েছে এবং এই ডিফারেন্স আদৌ কি সরকারের তরফ থেকে পুনরায় পেমেন্ট করা হবে কি হবে না, সেই নিয়ে আজকের আর্টিকেলটিতে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
সরকারের ঘোষণা ও এরিয়ার প্রদানের প্রক্রিয়া
দেখুন, সর্বপ্রথমে রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয় যে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদেরকে ২০১৬-র জানুয়ারি থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া যে এরিয়ার, সেটি দুটি কিস্তিতে ৫০%-৫০% করে—প্রথম কিস্তিটি মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তিটি সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হবে। কিন্তু এটি ঘোষণা করার পর, এরপর রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনারদের একাউন্টে ডিএ এরিয়ারের টাকা ঢুকতে শুরু করে এবং রাজ্যের অর্থদপ্তরের তরফ থেকে দাবি করা হয় ২০১৬ থেকে ১৯ পর্যন্ত চার বছরের সম্পূর্ণ বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিএ গণনায় ফারাক: একটি তুলনামূলক আলোচনা
রাজ্যের কর্মচারী এবং পেনশনাররা বলেন, তারা এআইসিপিআই অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাননি; অনেক পরিমাণ কম পেয়েছেন। কোন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার এরকম হিসেব করেছে এবং এর ফলে একজন কর্মচারী বা পেনশনার কত টাকা কম পেতে চলেছেন, সকল কিছু কত টাকা ডিএ ডিফারেন্স হচ্ছে, একটা দেখুন আমি এখানে চার্টের মাধ্যমে আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরেছি।

ডিএ ডিফারেন্স (২০১৬ – ২০১৯):
-
১ জানুয়ারি, ২০১৬: সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের কর্মীদের ছিল ১২৫ শতাংশ। ডিয়ারনেস অলাউন্সের পরিমাণ রাজ্যের কর্মীদের ছিল ৭৫ শতাংশ। যেখানে ডিফারেন্সটা ছিল ৫০ শতাংশ, সেখানে অর্থদপ্তরের তরফ থেকে যে ক্যালকুলেশনটা করা হয়েছে—সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের ১২৫-এর বদলে এখানে ১০০ ধরা হয়েছে এবং রাজ্যের যেহেতু ৭৫ ছিল, তাই ১০০ থেকে ৭৫ মাইনাস করে ২৫ শতাংশ এখানে পেমেন্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেখানে ৫০ শতাংশ দিতে হতো সেখানে দেয়া হয়েছে ২৫ শতাংশ।
-
১ জুলাই, ২০১৬: যেখানে সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট ছিল ১৩২ শতাংশ এবং রাজ্যের কর্মীদের ছিল ৭৫ শতাংশ, সেখানে ১৩২ না ধরে ১০০% ধরে ২৫ শতাংশ এখানে ডিফারেন্স রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ২৫ শতাংশ কম টাকা দেওয়া হয়েছে।
-
১ জানুয়ারি, ২০১৭: যেখানে সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের ডিএ-এর পরিমাণ ছিল ১৩৬%, রাজ্যের কর্মীদের ছিল ৮৫ শতাংশ; অর্থাৎ ডিফারেন্সটা ছিল ৫১%। কিন্তু এই জায়গায় অর্থদপ্তরের তরফ থেকে ধরা হয়েছে সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের ১১০% এবং ডিফারেন্সটা যেহেতু রাজ্যের ৮৫% ছিল, তাই ১১০ থেকে ৮৫ বাদ দিয়ে ২৫% এখানটায় হিসেবটা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে ২৫% কম দেওয়া হয়েছে।
-
১ জুলাই, ২০১৭: যেখানে সেন্ট্রাল গভর্মেন্টে ছিল ১৩৯%, রাজ্য কর্মীদের ছিল ৮৫%, যেখানে ৫৪% পাওয়ার কথা ছিল সেখানে সিমিলারভাবে ১১০% ধরা হয়েছে এবং কম দেওয়া হয়েছে ২৯ শতাংশ।
-
১ জানুয়ারি, ২০১৮: যেখানে সেন্ট্রাল গভর্মেন্টের কর্মীদের ছিল ১৪২ শতাংশ, রাজ্যের কর্মীদের ছিল ১০০ শতাংশ এবং সঠিক ডিফারেন্স হওয়া উচিত ছিল ৪২ শতাংশ, সেখানে এখানে ধরা হয়েছে ১১৫% (১৪২% এর বদলে) এবং পেমেন্ট করা হয়েছে যেখানে বকেয়া থেকে গেছে অলরেডি ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ১৫ শতাংশ দেওয়া হয়নি।
-
১ জুলাই, ২০১৮: যেখানে এআইসিপি অনুযায়ী সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট ছিল ১৪৮ শতাংশ, রাজ্যের কর্মীদের ১০০ শতাংশ; একচুয়াল ডিফারেন্স ছিল এখানে ৪৮%, সেখানে ১৫% কম দেয়া হয়েছে কারণ এখানে ধরা হয়েছিল ১১৫ শতাংশ।
-
১ জানুয়ারি, ২০১৯: যেখানে সেন্ট্রাল গভর্মেন্ট ছিল ১৫৪%, রাজ্যের কর্মীদের ছিল ১২৫%, অর্থাৎ এখানে বকেয়াটা ২৯% ছিল; কিন্তু এখানে ১৫৪-র বদলে ১৪৩ ধরা হয়েছে এবং ১৮% কম দেওয়া হয়েছে।
-
১ জুলাই, ২০১৯: এখান থেকে ১৬৪% ছিল সেন্ট্রালের, রাজ্যের কর্মীদের ছিল ১২৫%; অর্থাৎ ৩৯% হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখানে ডিফারেন্সটা ১৮% কম দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও কমিটির সিদ্ধান্ত
তাহলে একটি সামগ্রিক চার্টের মাধ্যমে আমি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। এই চার্টটি অন্যতম মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়জ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের ফেসবুক পেজে তুলে ধরা হয়েছে, আমি সেখান থেকে এটি কালেক্ট করে আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরছি।
Read More : 60-80 বয়স যাদের তাদের জন্য বড় সুখবর | এই এপ্রিল মাসে রয়েছে প্রচুর সুযোগ সুবিধা
অর্থাৎ, এক কথায় বলতে গেলে, রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরের তরফ থেকে যে বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়েছে, সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যে চার বছরের বকেয়া ডিএ এরিয়ার, সমস্ত টাকাটি কিন্তু রাজ্য সরকার প্রদান করে দেওয়া হয়েছে। অর্থদপ্তরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে এই চার বছরের কোন ডিউ নেই। কিন্তু আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালত্রার নেতৃত্বে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কমিটির সঙ্গে রাজ্য সরকারের যে উপদেষ্টারা আছেন তারা বসবেন এবং সেই অনুযায়ী কমিটি ডিসাইড করবে যে সঠিক নিয়ম মেনে অর্থাৎ সঠিক এআইসিপিআই মেনে এখানে ডিয়ারনেস অলাউন্স এরিয়াটি প্রদান করা হয়েছে কি হয়নি। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে কোন কথাই নেই, আর যদি এই ভুল অনুযায়ী কমিটি মেনে না নেয়, তাহলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের অর্থদপ্তরকে পুনরায় যে বকেয়ার টাকাটি আছে সেটা কিন্তু প্রদান করতে হবে।
তাহলে বন্ধুরা, এটি সরাসরি আমি আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরলাম। এই ব্যাপারে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে বা কোন কিছু জানার থাকে, অবশ্যই কমেন্ট করুন।