যুবসাথী প্রকল্পের টাকা নিয়ে বড় আপডেট: কেন আটকে যাচ্ছে আপনার কিস্তি?

আপনারা যারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন এবং নিয়মিত ভাতার অপেক্ষা করছেন, আজকের আর্টিকেলটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের মোবাইলে মেসেজ এসেছে যে প্রথম কিস্তির টাকা একাউন্টে ঢুকেছে, কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এখনো পাননি। আবার এমন অনেক আবেদনকারী আছেন যারা প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো কিস্তির টাকাই এখনো হাতে পাননি।
বর্তমানে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়ার নিয়মে এক বিরাট বড় পরিবর্তন এসেছে। আগেই সরকার সরাসরি আপনার দেওয়া ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ধরে টাকা পাঠিয়ে দিত, কিন্তু বর্তমানে রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এই প্রকল্পের টাকা ডিবিটি (DBT) অর্থাৎ ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে অনেকেরই এপ্রিল মাসের টাকা অর্থাৎ দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আটকে গেছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের বিস্তারিতভাবে দেখাবো কেন এই টাকা আটকে যাচ্ছে, আধার সিডিং বা এনপিসিআই ম্যাপিং কি এবং কিভাবে আপনি ঘরে বসে নিজের মোবাইল দিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্ট স্ট্যাটাস চেক করবেন।
টাকা দেওয়ার নতুন নিয়ম ও এনপিসিআই (NPCI) ম্যাপিং
প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে টাকা দেওয়ার নতুন নিয়মটি ঠিক কি। আগে যখন আপনারা যুবসাথী প্রকল্পের জন্য অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করেছিলেন, তখন আপনারা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের বইয়ের জেরক্স বা একাউন্ট নম্বর দিয়েছিলেন। আগেই সেই নির্দিষ্ট নম্বরেই টাকা আসতো। কিন্তু এখন নিয়ম বদলে গেছে। এখন সরকার আপনার দেওয়া একাউন্ট নম্বরটি দেখছে না, বরং দেখছে আপনার আধার নম্বরের সাথে কোন ব্যাংক একাউন্টটি লিংক করা আছে। একেই বলা হয় এনপিসিআই ম্যাপিং বা আধার ব্যাংক সিডিং।
আপনার আধার কার্ডের সাথে যে ব্যাংক একাউন্টটি আধার সিডিং করা আছে, টাকা সরাসরি সেই একাউন্টে চলে যাবে। ধরুন আপনার তিনটি আলাদা আলাদা ব্যাংকে একাউন্ট আছে—স্টেট ব্যাংক, ইউবিআই এবং পিএনবি। আপনি হয়তো ফর্মে স্টেট ব্যাংকের নম্বর দিয়েছিলেন, কিন্তু আপনার আধার কার্ডটি লিংক করা আছে পিএনবির সাথে; সেক্ষেত্রে আপনার টাকা কিন্তু স্টেট ব্যাংকে না গিয়ে পিএনবি একাউন্টে চলে যাবে। আর যদি আপনার কোনো ব্যাংকেই আধার সিডিং বা ডিবিটি অপারেশন চালু না থাকে, তবে সরকার আপনার টাকা পাঠালেও সেটি বারবার ফেইল হয়ে যাবে। এই কারণেই মূলত এপ্রিল মাসের টাকা বা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা অনেক আবেদনকারী পাননি।
কিভাবে আধার সিডিং স্ট্যাটাস চেক করবেন?
এবারে দেখবো আধার সিডিং স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন। প্রথমে আপনার গুগল ব্রাউজারকে ডেক্সটপ মোড করে নেবেন। তারপর গুগলে টাইপ করবেন এনপিসিআই (NPCI), তারপর সার্চ করবেন। সার্চ রেজাল্টের প্রথম যে লিংকটা আসবে সেই লিংকে ক্লিক করবেন। লিংকে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার অফিশিয়াল পোর্টাল ওপেন হয়ে যাবে। পোর্টালের লিংক এখানে দেওয়া রইল—Click Here। লিংকে ক্লিক করে ডাইরেক্ট এই পোর্টালে আসতে পারবেন।
পোর্টালে আসার পর ‘কাস্টমার’ অপশনে ক্লিক করে ‘ভারত আধার সিডিং এনাবেলার’ অপশনে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর এইরকম ইন্টারফেস আসবে। এখানে অনেকগুলো অপশন পাবেন; এই অপশনগুলোর মধ্যে ‘আধার ম্যাপ স্ট্যাটাস’ অপশনে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর এইরকম ইন্টারফেস আসবে। এখানে একাউন্ট হোল্ডারের আধার নাম্বার এন্ট্রি করবেন, তারপর ক্যাপচা বক্সে ক্যাপচা এন্ট্রি করে ‘চেক স্ট্যাটাস’ অপশনে ক্লিক করবেন।
চেক স্ট্যাটাসে ক্লিক করার পর আধার রেজিস্টার্ড মোবাইলে ওটিপি আসবে। জাস্ট ওটিপির ঘরে ওটিপি এন্ট্রি করবেন, তারপর কনফার্ম অপশনে ক্লিক করবেন। কনফার্ম অপশনে ক্লিক করার পর আধার ম্যাপিং স্ট্যাটাস শো হয়ে যাবে। যেমন—একাউন্ট হোল্ডারের আধার নাম্বারের লাস্ট ফোর ডিজিট শো হবে, এছাড়া ব্যাংকের নাম এবং ম্যাপিং স্ট্যাটাস ‘একটিভ’ বা ‘এনাবেল’ দেখাবে।
স্ট্যাটাস ‘ইনএকটিভ’ থাকলে করণীয়
মনে রাখবেন, যদি সেখানে ‘একটিভ’ বা ‘এনাবেল’ লেখা থাকে এবং একটি ব্যাংকের নাম দেখায়, তার মানে আপনার দিক থেকে সব ঠিক আছে। কিন্তু যদি সেখানে ‘ইনএকটিভ’ দেখায় বা কোনো ব্যাংকের নাম না আসে, তবে বুঝবেন আপনার একাউন্টে সমস্যা আছে। যদি আপনার স্ট্যাটাস চেক করার পর দেখেন যে সেখানে ‘ইনএকটিভ’ দেখাচ্ছে, তবে চিন্তার কিছু নেই। অনলাইনে এনপিসিআই পোর্টালের মাধ্যমে একটিভ করতে পারবেন অথবা আপনার সেই ব্যাংকের ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে গিয়ে ক্যাশিয়ার বা ম্যানেজারকে বলুন যে আপনি আপনার একাউন্টে ডিবিটি চালু করতে চান এবং আপনার আধার নম্বরটি এনপিসিআই সার্ভারে ম্যাপ করতে চান। ব্যাংক থেকে আপনাদের একটি কেওয়াইসি ফর্ম বা আধার সিডিং ফর্মও দেওয়া হবে। সেটি ফিলাপ করে জমা দেওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আপনার স্ট্যাটাস একটিভ হয়ে যাবে। এটি হয়ে গেলেই পরবর্তী কিস্তির টাকা পেতে আপনার আর কোন সমস্যা হবে না।
যারা এখনো একটি কিস্তির টাকাও পাননি
এবার আসি সেই বন্ধুদের কথায় যারা অনেকদিন হয়ে গেলেও একটি কিস্তির টাকাও পাননি। তাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছি:
-
প্রথমত: আপনারা যুবসাথীর অফিশিয়াল পোর্টালে গিয়ে আপনার রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস চেক করুন। দেখুন আপনার নাম বেনিফিশিয়ারি লিস্টে অর্থাৎ উপভোক্তার তালিকায় এখনো একটিভ আছে কিনা।
-
দ্বিতীয়ত: যদি আপনার স্ট্যাটাস পোর্টালে ঠিক থাকে এবং আধার সিডিংও একটিভ থাকে তবুও টাকা ঢুকছে না, এমনটা হলে আপনাকে অবশ্যই আপনার ব্লকের বিডিও (BDO) অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
মনে রাখবেন, জেলা বা ব্লক স্তরেই এই প্রকল্পের ডেটা ভেরিফিকেশন করা হয়। আপনার সমস্ত নথিপত্র যেমন—আধার কার্ড, ব্যাংকের বই, আবেদনের রসিদ এবং পোর্টালে আপনার স্ট্যাটাসের প্রিন্ট আউট নিয়ে বিডিও অফিসের সংশ্লিষ্ট বিভাগে যান। সেখানে আধিকারিকদের আপনার সমস্যার কথা জানান। তারা সরাসরি তাদের সিস্টেম থেকে আপনার পেমেন্ট আটকে থাকার কারণটি বলে দিতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে পেমেন্ট রিলিজ করার ব্যবস্থা করবেন।
Read More : 60-80 বয়স যাদের তাদের জন্য বড় সুখবর | এই এপ্রিল মাসে রয়েছে প্রচুর সুযোগ সুবিধা
শেষ কথা
যুবসাথী প্রকল্পের এই টাকাটি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের উন্নতির জন্য দেওয়া হয়। তাই সামান্য টেকনিক্যাল ভুল বা অসচেতনতার কারণে যেন আপনার এই প্রাপ্য টাকাটি হাতছাড়া না হয়। আমি আজ আপনাদের যে পদ্ধতিগুলো দেখালাম সেগুলো দ্রুত অনুসরণ করুন। আশা করি আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কোনো সমস্যা হলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আর এই ধরনের সরকারি প্রকল্পের লেটেস্ট আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের এই wbformhelp.in ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। ধন্যবাদ।
FAQ Section
1. টাকা কেন একাউন্টে ঢুকছে না?
মূলত ডিবিটি (DBT) বা আধার সিডিং সমস্যার কারণে অনেকের টাকা আটকে যাচ্ছে।
2. আধার সিডিং কী?
আধার কার্ডের সাথে ব্যাংক একাউন্ট সরাসরি যুক্ত থাকাকেই আধার সিডিং বা এনপিসিআই ম্যাপিং বলে।
3. কোন ব্যাংকে টাকা জমা হবে?
আবেদনপত্রে যে ব্যাংকই দিয়ে থাকুন না কেন, টাকা আপনার আধার-লিংকড ব্যাংক একাউন্টেই ঢুকবে।
4. স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?
এনপিসিআই (NPCI) পোর্টালে গিয়ে ‘Bharat Aadhaar Seeding Enabler’ অপশনে আধার নম্বর দিয়ে চেক করতে পারবেন।
5. ‘Inactive’ স্ট্যাটাস দেখালে সমাধান কী?
দ্রুত আপনার ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করে আধার সিডিং বা কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করিয়ে নিন।
6. সব ঠিক থাকলেও টাকা না পেলে কী করব?
আধার কার্ড, ব্যাংক বই এবং পোর্টালে আপনার স্ট্যাটাসের কপি নিয়ে বিডিও (BDO) অফিসে যোগাযোগ করুন।